অঙ্কিতা চ্যাটার্জ্জী, জামুড়িয়া -: মাথার ওপর পাকা ছাদের স্বপ্ন অধরা রেখেই বাঁশ আর ত্রিপলের নিচে দিন কাটছে এক অসহায় বৃদ্ধ দম্পতির। সরকারি আবাসন প্রকল্পের কাজ মাঝপথে আটকে যাওয়া এবং নিয়মিত সামাজিক ভাতা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে জীবন। পশ্চিম বর্ধমানের জামুড়িয়া ব্লকের চিচুড়িয়া গ্রামের নিচু পাড়ার এই হৃদয়বিদারক ছবি প্রশাসনের উদাসীনতার করুণ চিত্রই ফুটিয়ে তুলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ৫৭ বছরের বিশেষভাবে সক্ষম সন্ধ্যা ব্যানার্জী ও ৬৭ বছরের দৃষ্টিহীন ও শ্রবণ-প্রতিবন্ধী সুব্রত ব্যানার্জীর পরিবারে উপার্জন বলতে কিছুই নেই। শারীরিক অক্ষমতার কারণে দু’জনেরই কাজ করার ক্ষমতা চিরতরে কেড়ে নিয়েছে বয়স ও রোগ। দুর্দশা দেখে সরকারি আবাসন প্রকল্পের একটি বাড়ি মঞ্জুর হলেও প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা পেয়ে পুরনো ঘর ভেঙে কাজ শুরু করায় বিপত্তি বাধে।
অভিযোগ, এরপর আর পরবর্তী কিস্তির টাকা না আসায় অর্ধনির্মিত ইটের গাঁথুনিতেই কাজ থমকে যায়। ফলে বর্ষা ও রোদের হাত থেকে বাঁচতে বাধ্য হয়েই এখন বাঁশ ও ত্রিপল টাঙিয়ে দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা।
এতেই শেষ নয়, গত দুই-তিন মাস ধরে বন্ধ রয়েছে সন্ধ্যা দেবীর প্রতিবন্ধী ভাতা এবং সুব্রতবাবুর বার্ধক্য ভাতাও। কোনো রোজগার না থাকায় প্রতিবেশীদের সাহায্য আর ভিক্ষার ওপর নির্ভর করেই ধুঁকে ধুঁকে বেঁচে রয়েছে এই পরিবারটি। প্রতিবেশীদের আক্ষেপ, প্রশাসনের একটু মানবিক হস্তক্ষেপই পারে এই অসহায় দম্পতির মাথার ওপর একটি নিরাপদ ছাদ ও অন্নসংস্থান ফিরিয়ে দিতে।


















