সংবাদদাতা,পুরুলিয়া:- পুরুলিয়ার পুঞ্চায় সর্পদংশনে ৭ বছরের শিশুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসার গাফিলতিতে মৃত্যুর অভিযোগের ঘটনায় পরিবারের পাশে দাঁড়াল রাজ্য সরকার। শুক্রবার রাতে রাজ্য সরকারের তরফে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে চার লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন স্থানীয় বিধায়ক ময়না মুর্মু। পাশাপাশি তিনি চিকিৎসার গাফিলতিতে শিশু মৃত্যুর অভিযোগ মেনে নেন।
প্রসঙ্গত গত শুক্রবার গভীর রাতে পুরুলিয়ার পুঞ্চা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয় পুঞ্চা ব্লকের বাগদা অঞ্চলের হাতিয়াড় গ্রামের আট বছরের অরুপ গোপকে। অভিযোগ, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীদের অবহেলাতেই সেদিন রাকে মারা যায় শিশুটি। ঘটনায় শনিবার উত্তাল হয়ে ওঠে পুঞ্চা হাসপাতাল চত্বর।পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। পরবর্তী সময়ে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের তদন্তের পর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক এবং ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক নবকুমার বিশ্বাসকে তাঁদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং শিশুমৃত্যুর তদন্তের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য দফতর।
অন্য দিকে, ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক এবং এক মহিলা চিকিৎসককে হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। নিগৃহীত চিকিৎসক থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার রাতে রাজ্য সরকারের তরফে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে টাকার চেক তুলে দিয়ে স্থানীয় বিধায়ক বলেন, “চিকিৎসায় গাফিলতির কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। সেটা তদন্তে উঠে আসছে। দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে। দুর্গাপুরের বৈঠকে ঘটনার কথা আমরা মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছি। রাজ্য সরকার পরিবারের পাশে রয়েছে।”
এদিন বিধায়কের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পুরুলিয়ার জেলাশাসক সুধীর কোন্তম। তিনি বলেন, ” শিশুটির মৃত্যু দুর্ভাগ্যজনক। স্থানীয়েরা যে এলাকার স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির বেহাল দশার অভিযোগ করেছেন, সেটাও খতিয়ে দেখা হবে।”


















