এই বাংলায় ওয়েব ডেস্কঃ- রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হতেই যেন বদলে গেছে রাজনৈতিক হাওয়ার দিক। গতকাল পর্যন্ত যারা তৃণমূল দলের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিলেন, আবার কেউ দীর্ঘদিন বাম রাজনীতির ছত্রছায়ায় সক্রিয় ছিলেন, তাঁদের একাংশকেই এখন দেখা যাচ্ছে নতুন ক্ষমতার কেন্দ্রকে ঘিরে ব্যস্ত হয়ে পড়তে। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ব্যবসায়ী বা তথাকথিত ‘অরাজনৈতিক’ সংগঠনের ব্যানারে বিজেপি বিধায়ক ও নেতাদের ফুলের তোড়া, মালা, মিষ্টি ও সংবর্ধনায় ভরিয়ে দেওয়ার হিড়িক পড়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা চলছে। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের আলোচনা রাজ্যজুড়েই জোরদার হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের দাবি, বাংলার রাজনীতিতে ক্ষমতার কেন্দ্র বদলালেই “ঘনিষ্ঠতার রাজনীতি” নতুন রূপ নেয়। অভিযোগ, বহু সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি ও গোষ্ঠী এখন নিজেদের ‘নতুন পরিচয়’ তৈরি করতে মরিয়া। কোথাও সংবর্ধনা সভা, কোথাও শুভেচ্ছা বিনিময়, আবার কোথাও ছবি তুলে সামাজিক মাধ্যমে ‘ঘনিষ্ঠতা’ প্রমাণের প্রতিযোগিতা, সব মিলিয়ে রাজনৈতিক করিডরে এখন একটাই প্রশ্ন, “আদর্শ, না সুবিধা?”
সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে, কিছু নেতার দ্রুত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়া নিয়েও। সমালোচকদের কটাক্ষ, “দু’টো ফুল, এক বাক্স মিষ্টি আর কয়েকটা প্রশংসাতেই যদি নেতারা গদগদ হয়ে যান, তবে কর্মীদের দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের মূল্য কোথায়?” রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন সরকারকে ঘিরে ‘ঘনিষ্ঠতার প্রতিযোগিতা’ আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে, কারণ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাবের কেন্দ্র এখন বদলেছে।
তবে এই প্রবণতা নিয়ে বিজেপির অন্দরেও চাপা অসন্তোষের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। বিজেপির একাংশের বক্তব্য, “যারা গতকাল অন্য শিবিরে ছিল, তারাই যদি আজ প্রথম সারিতে জায়গা পেয়ে যায়, তাহলে দীর্ঘদিনের কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হতে বাধ্য।”
অনেকের আশঙ্কা, এমনটা চলতে থাকলে, আগামীদিনে কে সিপিএম,কে তৃণমূল আর কে বিজেপি বোঝা অসম্ভব হয়ে পড়বে। মিলেমিশে এলাকার হয়ে যাবে, তারফলে দেখা যাবে গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব। তাতে ক্ষতি হবে বিজেপি দলের। অন্যদিকে, সামাজিক মাধ্যম ও জনমতেও ‘রং বদলানো রাজনীতি’ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক বাড়ছে। কিছু অনলাইন আলোচনাতেও দলবদল ও সুযোগসন্ধানী রাজনীতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ পাচ্ছে।
এখন দেখার, নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে “আদর্শের রাজনীতি” জোর পায়, নাকি “সম্বর্ধনার রাজনীতি”ই হয়ে ওঠে নতুন বাস্তবতা।



















