নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর-: রবিবার বিকেলে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারে সরকারের উদ্যোগে সাত জেলার শিল্পপতি, ব্যবসায়ী এবং উদ্যোগপতিদের নিয়ে এক প্রাক-বাজেট বৈঠকের আয়োজন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন নগর উন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত সহ বিভিন্ন শিল্পপতি, উদ্যোগপতি এবং বণিক সভার প্রতিনিধিরা। বৈঠকে উপস্থিত শিল্পোদ্যোগীদের কাছ থেকে সরাসরি বিভিন্ন সমস্যা, দাবি এবং প্রস্তাব শোনেন মন্ত্রীরা। এবং রাজ্যে শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরির আশ্বাস দেওয়া হয়।
অন্যদিকে এদিনের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পূর্বতন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, “শিল্পের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং শিল্পোদ্যোগীদের সুবিধার কথা বলা হলেও বাস্তবে রাজ্যে শিল্পায়নের পরিবেশ গড়ে তোলা হয়নি। শিল্প স্থাপনের জন্য উদ্যোক্তাদের সিঙ্গল উইন্ডো সিস্টেমের আওতায় এনে দ্রুত পরিষেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই ব্যবস্থা কার্যকর হয়নি। শিল্পোদ্যোগীদের দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই ঘুষ নেওয়া হলেও কাজ হয়নি। ফলে শিল্পক্ষেত্রে বিনিয়োগের পরিবেশ নষ্ট হয়েছে এবং বহু শিল্পপতি রাজ্যে বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়েছেন।” পাশাপাশি তার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়নের দিকে নজর দেওয়া হয়নি। বহু এলাকায় এবং শিল্প তালুকগুলিতে রাস্তাঘাট বেহাল অবস্থায় রয়েছে। শিল্পাঞ্চলগুলিতেও পর্যাপ্ত পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে। শ্রমিক সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যাও রয়েছে। কাজের সুযোগ কমে যাওয়ায় বহু শ্রমিককে অন্য রাজ্যে গিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। আর এই পরিস্থিতির জন্যই পশ্চিমবঙ্গে নতুন শিল্প গড়ে ওঠেনি। বিশ্ব বাংলা বাণিজ্য সম্মেলন নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন মন্ত্রী। তার অভিযোগ, করদাতাদের টাকায় বিশ্ব বাংলা সম্মেলন করা হয়েছে। বড় বড় বিনিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। মানুষকে শুধু স্বপ্ন দেখানো হয়েছে।
এদিন মন্ত্রী জানান, পূর্বতন তৃণমূল সরকার হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণের বোঝা চাপিয়ে যাওয়ায় নতুন সরকারের সামনে রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক করা এবং উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া বড় চ্যালেঞ্জ। তা সত্ত্বেও বর্তমান সরকার শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে।
শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরির আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, “রাস্তাঘাট ঠিক করতে হবে। আইনশৃঙ্খলার আরও উন্নতি করতে হবে। শিল্প গড়ে তুলতে গেলে পরিকাঠামো উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। সেই বিষয়গুলিকে সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।”মন্ত্রী আরও বলেন, “বহু শিল্পপতির জমি সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে। কোথাও জমির মালিকানা নিয়ে জটিলতা, কোথাও আবার প্রশাসনিক কারণে প্রকল্প আটকে রয়েছে। সেই সমস্ত সমস্যা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।”

















