সংবাদদাতা,বাঁকুড়াঃ- হাইকু, জাপানি কবিতার বিশেষ ধারা। মূলত তিন লাইনের সংক্ষিপ্ত কবিতা। যেখানে অল্প কয়েকটি শব্দের মধ্যেই ফুটে ওঠে গভীর অনুভূতি, প্রকৃতির সৌন্দর্য, জীবনদর্শন কিংবা একটি ছোট্ট গল্প। বাঁকুড়ার বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ পরিমল পাল বাংলায় এই হাইকু লিখে সম্প্রতি নজর কেড়েছেন। চিকিৎসার পাশাপাশি সাহিত্য চর্চাকেও সমান তালে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন এই চিকিৎসক।
ডাঃ পরিমল চিকিৎসাসেবার ব্যস্ততার মধ্যেও নিয়মিত লিখে চলেছেন জাপানি কবিতার বিশেষ ধারা হাইকু। ইতিমধ্যে প্রায় দুই হাজারেরও বেশি হাইকু রচনা করে ফেলেছেন তিনি। বই মেলায় প্রকাশিত হয়েছে তাঁর বই। তাঁর প্রথম হাইকু কাব্যগ্রন্থ ২০২৩ সালে প্রকাশিত হয়। যা সাহিত্যপ্রেমীদের নজর কেড়েছে। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় নিয়মিত লেখালেখি করেন।
ডাঃ পরিমল পালের হাইকুতে কখনও প্রেম, কখনও আত্মচিন্তন, আবার কখনও মানবিক অনুভূতির সূক্ষ্ম প্রকাশ ধরা পড়ে। তবে ডাঃ পাল জানান, “একটি হাইকু কবিতার একাধিক অর্থ থাকতে পারে। পাঠকের অনুভূতির ওপর নির্ভর করে তার ব্যাখ্যা বদলে যায়।”
সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি মানবিক চিকিৎসক হিসেবেও সুপরিচিত ডাঃ পাল। প্রতিদিন সকালে প্রায় ২০ জন রোগীকে প্রায় বিনামূল্যে চিকিৎসা করেন। প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ দেন, রিপোর্ট দেখে পরামর্শ দেন, এমনকি অসহায় রোগীদের যাতায়াতের খরচও নিজের উদ্যোগে বহন করেন।
চিকিৎসার মতো ব্যস্ত পেশায় থেকেও কীভাবে সাহিত্য চর্চা করে চলেছেন, এই প্রশ্নের উত্তরে ডাঃ পাল জানান, তিনি মানুষ ভালোবাসেন, চিকিৎসা করতে ভালোবাসেন আবার সাহিত্য চার্চা করতেও ভালোবাসেন। তাই ভালোবাসার টানেই নেশা ও পেশা কোথাও মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছে।
এই ব্যস্ততার যুগে মানুষ যখন শুধুই ছুটে চলেছে তখন নেশা ও পেশার সমন্বয় ঘটিয়ে অনন্য এক নজির গড়েছেন বাঁকুড়ার এই বিশিষ্ট চিকিৎসক।


















