সঙ্গীতা চৌধুরীঃ- কথায় বলে জগন্নাথের রথ টানলে দুগ্গা আসে। সত্যি রথযাত্রা আর দুর্গা পুজোর মধ্যে খুব বেশি দূরত্ব নেই। রথের দিন রথ সমেত জগন্নাথ দেবকে যিনি দর্শন করেন, তার আর পুনর্জন্ম হয় না। রথের দিন জগন্নাথ বলরাম ও সুভদ্রা, তিন ভাইবোন রথে ওঠেন, সর্বজনকে তারা দর্শন দেন। তবে অনেকেই জানেন না পুরাণ মতে রথ জিনিসটা অনেক বেশি প্রতীকি! এই রথের সারথী হল আমাদের আত্মা।
তাই পুরাণ ব্যাখ্যা অনুযায়ী রথের দিন কী করবেন? আত্মাকে এমন ভাবে কলুষ মুক্ত করতে হবে যাতে আমাদের শরীর রূপ রথে স্বয়ং জগন্নাথ এসে বসেন! আর কোন বাহ্যিক কর্ম নয় শুধু অন্তরকে পরিশুদ্ধ করতে হবে, যেমনভাবে ওয়াশিং মেশিনে আমরা কাপড় কাচি তেমনভাবে আমাদের মনটাকেও যদি ভক্তির মাধ্যমে ভগবানের পায়ে সঁপে দেওয়ার মাধ্যমে পরিশুদ্ধ করতে পারি, কারোর ক্ষতি না চেয়ে মনে প্রাণে সকলের ভালো চাইতে পারি, তাহলে আগে আমাদের ভালো হবে, আমাদের শরীর রূপ রথে ভগবানের দেখা মিলবে! তাই রথের দিন কী করবেন, কী করবেন না বলতে আজ আর কোন বাহ্যিক আচারের কথা বলবো না। আজ বলবো এক মানসিক প্রতিজ্ঞা নেওয়ার কথা।
আজ এই শুভ দিনে জগন্নাথের সামনে দাঁড়িয়ে জগন্নাথকেই বলুন আপনার আত্মাকে তিনি যেন পরিশুদ্ধ করেন যাতে সেই আত্মার মাধ্যমে আপনার শরীর মন্দির হয়ে ওঠে… আমরা নিজেরা যদি ভগবানকে দুহাত দিয়ে আঁকড়ে ধরি অনেক সময় হাতের মুঠো আলগা হয়ে যেতে পারে কিন্তু তিনি যদি আমাদের ধরেন তাহলে তার হাতের মুঠো কখনো আলগা হবে না কারণ তিনি জগতের নাথ। তাই অন্তরের শ্রদ্ধা ভক্তি নিয়ে ভগবানের কাছে গিয়ে চোখে জল এনে বলুন প্রভু তুমি আমায় নাও… অনেকটা সেই গানের মত হয়ে উঠুক আমাদের মনের কথা,‘‘আমার হাত ধরে তুমি নিয়ে চলো সখা আমি যে পথে চিনি না’।
জয় জগন্নাথ। সকল ভক্তের মনোবাঞ্ছা পূর্ণকারী জগন্নাথদেব কি জয়।


















