সন্তোষ কুমার মণ্ডল,আসানসোলঃ- রাজ্যে রাজনৈতিক পালা বদলের পর থেকেই করুণ অবস্থা পূর্বতন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের। দলের সাংসদ, বিধায়ক, নেতারা একে একে সব দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছেড়ে গেছেন। দুভাগে বিভক্ত তৃণমূল কংগ্রেস নিয়ে যারপরনাই অস্বস্তিতে দলের কর্মীরা। যে দলের জন্য কর্মীরা লড়াই করেছেন তার পরিণতি কি হতে চলেছে তা নিয়ে ধন্দে অনেকেই। এই আবহে পশ্চিম বর্ধমান জেলার পাণ্ডবেশ্বরের তৃণমূলের এক পঞ্চায়েত প্রধান পাণ্ডবেশ্বরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা তৃণমূলের জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। যা নিয়ে পাণ্ডবেশ্বরের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
পাণ্ডবেশ্বরের বহুলা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তথা তৃণমূল নেতা বীরবাহাদুর কুমার সিং একটি ভিডিও বার্তায় প্রাক্তন বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের পর গত দুমাসে বহু তৃণমূল কর্মী নানা সমস্যার মুখোমুখি হলেও প্রাক্তন বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী একবারও তাঁদের খোঁজ নেননি। যাঁরা পাঁচ বছর ধরে তাঁর জন্য কাজ করেছেন, তাঁদের প্রতি তিনি সম্পূর্ণ উদাসীন থেকেছেন। একজন রাজনৈতিক নেতা কতটা স্বার্থপর হতে পারেন, তা নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর আচরণে স্পষ্ট হয়েছে। এই বিষয়ে পাণ্ডবেশ্বরের মানুষই শেষ পর্যন্ত বিচার করবেন।
এর পাশাপাশি ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রাক্তন বিধায়ক বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালিয়েছিলেন বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি বিধানসভা নির্বাচনে জনগণের রায়ে বিজেপি প্রার্থী জিতেন্দ্র তিওয়ারি বিজয়ী হলেও, ফল ঘোষণার পর নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর পক্ষ থেকে ফলাফল নিয়ে বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালানো হয়। একই সঙ্গে তিনি বর্তমান বিজেপি বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারির প্রশংসা করে বলেন, “ভোট পরবর্তী হিংসা এড়াতে এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে জিতেন্দ্র তিওয়ারি ও প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছেন।”
তবে বীরবাহাদুর সিংয়ের এই অভিযোগ নিয়ে নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি। অন্যদিকে, ইতিমধ্যেই নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিয়েছেন। তাঁকে ঋতব্রত তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে পশ্চিম বর্ধমান জেলার সভাপতিও করা হয়েছে।



















