eaibanglai
Homeএই বাংলায়দুর্গাপুরে ইসকনের রথের ধাক্কাই ইলেকট্রিক পোল উপড়ে শিক্ষিকার মৃত্যুর অভিযোগ

দুর্গাপুরে ইসকনের রথের ধাক্কাই ইলেকট্রিক পোল উপড়ে শিক্ষিকার মৃত্যুর অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ- আজ গোটা দেশ তথা বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে মহাসমারহে শ্রী শ্রী জগন্নাথ প্রভুর পবিত্র রথযাত্রা। শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরেও বড় পাঁচটি রথ যাত্রার আয়োজন হয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম হলো দুর্গাপুর ইস্পাত নগরীতে অবস্থিত ইসকন মন্দির থেকে শুরু হওয়া রথযাত্রার। আজ এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে ও দুর্গাপুর পূর্ব-পশ্চিমের দুই বিধায়কের উপস্থিতিতে শুরু হয় এই পবিত্র রথযাত্রার। এবারে ইসকন কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল দুই লক্ষেরও বেশি মানুষের জনসমাগম ও ভক্তের ভিড় হবে। এবারের দুর্গাপুরের ইসকন মন্দিরের রথযাত্রার বিশেষ আকর্ষণ ছিল পুরি জগন্নাথ মন্দিরের আদলে তৈরি তিন তিনটি সুসজ্জিত রথ। শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুর তথা আশেপাশের অঞ্চলের বহু মানুষ এদিন ইসকনের এই পবিত্র রথযাত্রার অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু স্থানীয় ইস্পাত নগরীর রানা প্রতাপ এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ “আজ দুপুরে যখন দুর্গাপুর ইসকন মন্দিরের সুসজ্জিত রথযাত্রার স্থানীয় আশীষ মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছায় তখনই ঘটে যায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। কেড়ে নিল অবসরপ্রাপ্ত ৭০ ঊর্ধ্ব শিক্ষিকা ও সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির কর্মী আলোকলতা চৌধুরীর জীবন।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, “আজ দুপুর ১টা নাগাদ যখন ১৫/১১ রানাপ্রতাপ রোডের বাসিন্দা আলোকলতা চৌধুরী আশিস মার্কেট থেকে বাজার করে বাড়ি ফিরছিলেন, সেই সময় চলন্ত ইসকনের রথের সুউচ্চ ধ্বজা দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার ইলেকট্রিক লাইনে আটকে গিয়ে ইলেকট্রিক পোলটি উপড়ে নিয়ে গিয়ে আলোকলতা চৌধুরীর মাথার ওপর। তৎক্ষণাৎ স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে আহত ওই বৃদ্ধ স্কুল শিক্ষিকাকে প্রথমে দুর্গাপুর ইস্পাত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তারা উচ্চতর চিকিৎসার জন্য অন্যত্র নিয়ে যেতে বলেন তার আত্মীয়দের। কিন্তু পারিবারিক সূত্রে খবর দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার মেন হসপিটাল থেকে বিধান নগরের একটি বেসরকারি সুপার স্পেশালিটি হসপিটালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মারা যান অবসরপ্রাপ্ত ৭০ ঊর্ধ্ব শিক্ষিকা আলোকলতা চৌধুরী।”

এই ঘটনার কথা জানাজানি হতেই শোকের ছায়া নেমে আসে স্থানীয় রানাপ্রতাব রোড এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, “দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা কর্তৃপক্ষ কিভাবে ব্যস্ততম ইস্পাত নগরীর রাস্তার ওপর দিয়ে ওই সুউচ্চ ধ্বজা সমেত রথ যাত্রার অনুমতি দিলেন? অনুমতি দেওয়ার আগে কেন রথ পরিক্রমা পথটি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়নি?” স্থানীয় মানুষ দুর্গাপুর নগর প্রশাসনের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন, “আজকের এই দুর্ঘটনাটি আরো বড় আকার ধারণ করতে পারতো। ওই ইলেকট্রিক পোলে চাপা পড়ে আরও অনেকের প্রাণ যেতে পারতো-বিদ্যুতাহত হয়েও কেউ কেউ মারা যেতে পারতেন!” তাদের আরো অভিযোগ, “দুর্গাপুর ইস্পাত নগরীর মধ্যে একাধিক উচ্চ পর্যায়ের কোয়ার্টার নিয়ে ইসকনের মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়েছিল- কোন নিয়মে তা জানা নেই। তারপর আবার ইস্পাত নগরীর মধ্যে নিরাপত্তা বিধি না মেনে তাদের এইভাবে রথ পরিক্রমার দায়িত্ব কারা কারা দিলেন? এভাবে সাধারণ ইস্পাত নগরীর বাসিন্দাদের চলাচলের রাস্তায় কিভাবে কোন পর্যবেক্ষণ ছাড়াই রুট ম্যাপ তৈরি করে ধর্মাচরণ করা হয়েছে তার জবাব বা দায়িত্ব কে নেবে?”

এদিকে এই ঘটনার পরেই সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির সদস্যরা সক্রিয় হয়েছেন এবং সম্ভবত কালকে তারা দুর্গাপুর ইস্পাত কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করবেন বলে সূত্র মারফত জানা গেছে। অন্যদিকে দুর্গাপুর ইস্পাত নগরীর ইসকন মন্দির কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে আজকের এই ব্যস্ততম দিনে তাদের কোন উচ্চ কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা যায়নি।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments