নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: – আজ রথ যাত্রা। আষাঢ় মাসের শুক্লা পক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে পালিত হয় এই পবিত্র উৎসব। এই শুভ দিনে শ্রীজগন্নাথদেব তাঁর দাদা বলভদ্রদেব ও বোন সুভদ্রাদেবীর সঙ্গে সুসজ্জিত রথে করে মাসির বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। হিন্দু মান্যতা অনুযায়ী রথের রশি টানলে বা রথ দর্শন করলে মানুষের সমস্ত পাপ দূর হয় এবং জন্ম মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্তি মেলে।
সারা দেশ বাংলার পাশাপাশি দুর্গাপুরেও মহাসমারোহে পালিত হচ্ছে রথযাত্রা উৎসব। শহরের অন্যতম বড় রথযাত্রা উৎসবের আয়োজন করা হয় দুর্গাপুর ইসকনের উদ্যোগে। এবছর ১৮তম বর্ষ পদার্পণ করল তাদের রথযাত্রা উৎসব।
প্রতিবছরের মতো এবছরও স্টিল টাউনশিপের আকবর রোডের স্কুল ময়দানে তৈরি হয়েছে জগন্নাথ দেবের অস্থায়ী মাসির বাড়ি (গুণ্ডিচা মন্দির)। আবার এই মন্দির ঘিরে রয়েছে চমক। জস্থানের বিখ্যাত ঋষভদেব জৈন মন্দিরের আদলে তৈরি হয়েছে গুণ্ডিচা মন্দির। ইসকন মন্দির প্রাঙ্গন থেকে রথযাত্রা শুরু হয়ে দুর্গাপুর ইস্পাত নগরীর বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে আকবর গার্লস স্কুল মাঠের অস্থায়ী মন্দিরে পৌঁছয় রথ। এই মন্দিরেই দাদা ও বোনের সঙ্গে আগামী সাত দিন পূজিত হবেন জগন্নাথ দেব। উল্টো রথের দিন ফিরে যাবেন নিজস্ব মন্দিরে।
এবারের রথযাত্রা উৎসব উপলক্ষে ৬০০ বর্গফুটের বিশেষ রামলীলা প্রদর্শনী, রামায়ণ কুইজ, বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চক্ষু পরীক্ষা ও মেডিক্যাল ক্যাম্পেরও আয়োজন করা হয়েছে। ইসকন কর্তৃপক্ষের দাবি এবার প্রায় ২ লক্ষ ভক্তদের জন্য প্রসাদ প্রস্তুত করছেন তাঁরা। খাঁটি ঘি ব্যবহার করে ১৬টি উনুনে কাঠের জ্বালে ভোর থেকে শুরু হয়েছে প্রসাদ তৈরি চলবে রাত পর্যন্ত।
আজকের রথযাত্রা উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বনমন্ত্রী দিবাকর ঘরামি দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষণ চন্দ্র ঘড়ুই ও পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়।



















