অঙ্কিতা চ্যাটার্জ্জী, আসানসোল-দুর্গাপুরঃ- রথযাত্রার কলস যাত্রা ঘিরে সালানপুরের এথোড়া গ্রামে ধরা পড়ল এক কলঙ্কিত ছবি। মন্দির প্রতিষ্ঠা ও কলস যাত্রাকে কেন্দ্র করে বাউরি সমাজের মানুষদের মন্দিরে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠল স্থানীয় মন্দির কমিটির বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিনের ধর্মীয় সম্প্রীতির বাতাবরণ ভেঙে এই ‘সামাজিক বয়কট’-এর ঘটনায় রবিবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কর্মকার পাড়া।
অভিযোগ, বিগত বহু বছর ধরে বাউরি সম্প্রদায়ের মানুষজন যে সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে পুজো দিয়ে আসছেন, এথোড়ার মন্দির কমিটি হঠাৎ করেই তাঁদের প্রবেশাধিকার রুখে দেয়। রথযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত কলস যাত্রাতেও বাধা সৃষ্টি করা হয়। এই বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে রবিবার সকালে পাঁচটি পাড়ার কয়েকশো মানুষ একজোট হয়ে মন্দিরের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভকারীদের সাফ প্রশ্ন, কেন শতাব্দীর এই কুসংস্কারাচ্ছন্ন বৈষম্য? কেন ধর্মের নামে পিছিয়ে পড়া সমাজকে ব্রাত্য করে রাখা হচ্ছে?
ঘটনার আকস্মিকতায় কার্যত স্তব্ধ স্থানীয়রা। একদিকে ধর্মের নামে উন্মাদনা, অন্যদিকে জাতপাতের কুৎসিত রূপ- এই দুইয়ের দ্বন্দ্বে কার্যত রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে এলাকা। সামডি ফাঁড়ি ও সালানপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস পাওয়ার পর বিক্ষোভ থামলেও, স্থানীয়দের ক্ষোভ এখনও তীব্র। মন্দির কমিটির অধিকাংশ সদস্যই ঘটনার পর থেকে মুখে কুলুপ এঁটেছেন।
সমাজের মূলস্রোতে ফেরার লড়াইয়ে এক আদিবাসী ও অনগ্রসর সম্প্রদায়ের মানুষের এই প্রতিবাদ, উন্নয়নের যুগে দাঁড়িয়েও আমাদের সামাজিক কাঠামোর পচনকেই পুনরায় সামনে নিয়ে এল।

অন্যদিকে দুর্গাপুর মহকুমার অণ্ডালেও বাউড়ি সমাজের এক মহিলাকে মন্দিরে ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। অণ্ডালের দক্ষিণ খণ্ড কালীমন্দিরে বিপত্তারিণী পুজো দিতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হন এলাকার বাসিন্দা প্রিয়াঙ্কা বাউরী। অভিযোগ মন্দিরের এক মহিলা সেবাইত তাঁকে মন্দিরে প্রবেশে বাধা দেন । এরপর প্রিয়াঙ্কা ঘটনাটির ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করলে চাঞ্চল্য তৈরি হয় এলাকায়। বিষয়টি পুলিশের নজরে এলে অণ্ডাল থানার পুলিশ মন্দিরের মহিলা সেবাইত, কমিটির সদস্যদের থানায় ডেকে পাঠায়। পরে ওই সেবাইত প্রিয়াঙ্কা বাউরীর কাছে ক্ষমা চান।
প্রিয়াঙ্কা বাউরী এদিন বলেন, “আমি পুজো দিতে গেলে আমাকে মন্দিরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। বাউরী হওয়ায় হলে কি মন্দিরে অধিকার নেই! আমি প্রতিবাদ করেছিলাম। পরে আমার কাছে ক্ষমা চাওয়া হয়েছে।” অন্যদিকে অভিযুক্ত সেবাইত জবারানী কবিরাজ নিজের ভুল স্বীকার করে নিয়ে বলেন, “ওই ধরনের কথা বলা আমার ভুল হয়েছে।”


















