eaibanglai
Homeএই বাংলায়ভোটের মুখে দুর্গাপুরে তৃণমূলে ভাঙন, দলের হেভিওয়েট নেতার যোগ বিজেপিতে

ভোটের মুখে দুর্গাপুরে তৃণমূলে ভাঙন, দলের হেভিওয়েট নেতার যোগ বিজেপিতে

নিজস্ব সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ- ভোটের মুখে দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে তৃণমূলে বড়সড় ভাঙন। শনিবার রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের হাত ধরে সদলবলে বিজেপিতে যোগদান করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক বিশ্বনাথ পাড়িয়াল।

তৃণমূলের প্রাক্তন এই নেতার দলবদলু উপাধি রয়েছে। এর আগে একাধিকবার দল বদলেছেন তিনি। ১৯৯৭ সালে প্রথম জাতীয় কংগ্রেসের হয়ে জিতে কাউন্সিলর হন বিশ্বনাথ পাড়িয়াল। তারপর তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। ২০০২ সাল থেকে পর পর তিন বার কাউন্সিলর পদে ছিলেন। এরপর ৪ বার কাউন্সিলর হওয়ার পর বিধানসভায় তৃণমূলের হয়ে টিকিট না পাওয়ায় ২০১৬ সালে বাম সমর্থিত জাতীয় কংগ্রেসের হয়ে দুর্গাপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রে লড়াই করেন। সেবার দুর্গাপুর পশ্চিম আসনের তৃণমূল প্রার্থী অপূর্ব মুখার্জিকে বিপুল ভোটে হারিয়ে জয়লাভ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই সময় বিশ্বনাথ পাড়িয়ালকে গদ্দার হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। কিন্তু ঠিক তার ৩ মাস পর আবার তৃণমূলে ফেরেন বিশ্বনাথবাবু। এরপর তাকে তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়নের জেলা সভাপতি নিযুক্ত করা হয়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে ফের দুর্গাপুর পশ্চিম আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। কিন্তু বিজেপির লক্ষ্মণ ঘরুয়াইয়ের কাছে পরাজিত হন।
এবার ২০২৬ এর নির্বাচনে লড়ার টিকিট না পেয়েই ফের তিনি বিজেপিতে যোগ দিলেন বলে মনে করেছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

এদিকে বিজেপিতে যোগ দিয়ে এদিন বিশ্বনাথবাবু বলেন, “রাজনৈতিকভাবে তৃণমূলে কংগ্রেসে পচন ধরে গিয়েছে। একটা রাজ্য ঠিকঠাক চলছে কি চলছে না তা ঠিক হয় কয়েকটি বিষয়ের উপরে ভিত্তি করে। সেগুলি হল শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, কৃষি ও সাহিত্য। বিচার করে দেখলে বুঝতে পারবেন, শিক্ষার বারোটা বেজে গিয়েছে, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, শিল্পের মেরুদণ্ড ভেঙে গিয়েছে, রাজ্য ছেড়ে শিল্পপতিরা অন্য রাজ্যে চলে যাচ্ছেন। সবেমিলিয়ে রাজ্যটাকে গত ১২ বছর এরা রসাতলে পাঠিয়ে দিয়েছে। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম তৃণমূল কংগ্রেসে আর নয়। আজ ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দিলাম।”

প্রসঙ্গত, বিধানসভা ভোটের প্রথম দফার আর মাত্র চার দিন বাকি। এদিকে এসআইআর এর জেরে রাজ্যের প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গেছে। ফলে এনিয়ে শাসকদল খানিকটা হলেও চাপে রয়েছে। এরকম পরিস্থিতিতে তৃণমূলের এক প্রভাবশালীর নেতার বিজেপিতে যোগ যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেছেন রাজনৈতিকভাবে সচেতন মানুষজন। যদিও শিল্পাঞ্চলের এই হেভিওয়েট নেতার বিজেপি যোগ ভোটের ফলে কতটা প্রভাব ফেলবে তা নির্বাচনের ফলেই জানা যাবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments