সংবাদদাতা,আসানসোলঃ- ‘চোরের চৌষট্টি বুদ্ধি’ প্রবাদটি যে কতখানি ধ্রুবসত্য, তার চরম নিদর্শন মিলল সালানপুরের দেন্দুয়া কল্যানেশ্বরী শিল্পাঞ্চলে। রাজ্যে বালি-কয়লার অবৈধ কারবারে রাশ পড়তেই স্থানীয় ‘সুযোগসন্ধানীরা’ এবার খুঁজে বের করেছেন নতুন এক আয়ের উৎস— প্রাকৃতিক সম্পদ ‘জল’। এই জল চুরির কারবারকে কেন্দ্র করেই এখন উত্তপ্ত নাকড়াজোড়িয়া, যার নেপথ্যে নাম জড়িয়েছে স্থানীয় বিজেপি নেতা কৃষ্ণা বাউরির।
অভিযোগ, জমির আল আটকে কৃত্রিম জলাধার তৈরি করে সেখান থেকে পাম্প ও পাইপের মাধ্যমে জল টেনে ট্যাঙ্কারে ভরে চড়া দামে শিল্পাঞ্চলগুলিতে বিক্রি করা হচ্ছিল। প্রতি ট্যাঙ্কার ১২০০ টাকা! কৃষকদের চাষের জল আর গরুর তেষ্টা মেটানোর বদলে তা এখন ‘স্নাতক’ হয়েছে মুনাফার ব্যবসায়। ৩ জুলাই গ্রামবাসীরা একটি ট্যাঙ্কার আটক করতেই বেরিয়ে পড়ে আসল রহস্য।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে খোদ বিজেপিরই অন্য গোষ্ঠী সরব হয়েছে। দলীয় কর্মীদের হুঁশিয়ারি, “বিজেপি ‘জিরো টলারেন্স’-এর সরকার, এখানে তোলাবাজি চলবে না।” অথচ সেই দলেরই এক নেতার বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ প্রমাণ করে, রাজনীতির রং পাল্টালেও সালানপুরের তোলাবাজির পুরনো স্ক্রিপ্ট একই রয়ে গেছে।
একদিকে ভূগর্ভস্থ জলস্তর নামছে, অন্যদিকে পকেট ভারী হচ্ছে ‘নেতা’দের। প্রশাসন বালি-কয়লা রুখতে তৎপর, কিন্তু ‘জল-মাফিয়া’দের এই অভিনব কৌশলের মোকাবিলায় তারা কতখানি সফল হয়, সেটাই এখন দেখার। উন্নয়নের নামে এভাবে সম্পদ লুঠের এই ‘নয়া মডেল’ সত্যিই কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে সাধারণ মানুষের।


















