eaibanglai
Homeএই বাংলায়সরকার বদলাতেই বালি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে সরব গলসীর চাষীরা

সরকার বদলাতেই বালি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে সরব গলসীর চাষীরা

নিজস্ব সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ- জোরপুর্বক চাষ জমির ওপর রাস্তা তৈরী। আর ওই রাস্তা দিয়ে চলছিল ওভারলোডিং বালি বোঝাই লরি ডাম্পার। তার জেরে উধাও হয়ে গিয়েছিল বিঘার পর বিঘা চাষজমি। গত ১৫ বছরে পুলিশ প্রশাসনের দারস্ত হয়েও বিচার জোটেনি। জুলুমবাজিতে সিটিয়ে পড়েছিল। সরকার বদল হতেই ক্ষতিগ্রস্ত চাষীরা এবার বালি মাফিয়াদের দৌরাত্মের প্রতিবাদে সরব হল। এমনই নজিরবীহিন ছবি ধরা পড়ল গলসী-১ নং ব্লকের বুদবুদ থানার সোদপুরে।

উল্লেখ্য, দামোদর নদে গলসী-১ নং ব্লকের সোদপুর লাগোয়া বালিঘাট রয়েছে। বৈধ ঘাট হলেও অবৈধ উপায়ে বালি তোলা হয়। গ্রীন ট্রাইবুনালের নির্দেশিকাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে ছাঁকনি মেশিন বসিয়ে চলে বালি উত্তোলন। এছাড়াও ঘাট থেকে অবাধে ওভারলোডিং বালি বোঝাই করে লরি ডাম্পারে। আর এই ওভারলোডিং বালি বোঝাই লরি, ডাম্পার যাতায়াতের দরুন গলসী-১ নং ব্লকের সোদপুর মৌজার বিঘার পর বিঘা জমি নষ্ট হয়েছে। চাষ জমির ওপর গা’য়ের জোরে প্রভাব খাটিয়ে তৈরী হয়েছে বালির গাড়ি যাতায়াতের রাস্তা। তিন ফসলি ওইসব জমি গত ১৫ বছর ধরে বিপন্ন হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত চাষী পরেশনাথ মন্ডল অভিযোগে জানান,” সোদপুর মৌজার জেএল নং ৩২৯, খতিয়ান নং ৪৬২, দাগ নং ৩২৯, ৪৬৬, ৪৯৮, ৫০০, ৫০২, ৯২০, ৯৫৫, ৬০৭, ৬১৩, ৬১৬, ৬৩০, ৬৩৫, ৭৮০, ১৪১১, ১৪১৫, ১৪২১ ও ২২০৯ এর প্রায় ১৬ বিঘা জমি রয়েছে। জোরপুর্বক জমির ওপর ছাই ফেলে রাস্তা তৈরী করেছে। বিগত সরকারের জামানায় বহুবার পুলিশ, বিএলআরও, ব্লক প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি। সুবিচার তো দুর অস্ত, তৎকালিন শাসকদলের নেতাদের চোখরাঙানি জুটেছে। ভয়ে সিটিয়ে থাকতে হয়েছে। ক্ষতিপুরণ পাইনি। চোখের সামনে জমিগুলো নষ্ট করে দিয়েছে। চাষ না করতে পেরে অনটনে দিন কাটাতে হয়েছে।” তিনি আরও বলেন,” মুখ বন্ধ করে চাতক পাখির মত বসেছিলাম, কবে সরকারটা বদল হবে। সেদিন সুবিচার পাবো। নতুন সরকার হয়েছে। তাই সুবিচারের আশায় আবার অভিযোগ জানিয়েছি। গত ১৫ বছর ধরে আমার ১৬ বিঘা তিন ফসলি জমির যা ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপুরণ যেন পাই। আমার চাষ জমি যেন আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়।” পরেশবাবুর মতই আরও অনেক চাষীর জমি নষ্ট হয়ে বন্ধ্যা হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়। সোদপুর নিমডাঙা এলাকায় সেচ ক্যানেলের পাড়ের রাস্তায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার রাস্তার পিচ যেমন উঠে গেছে। তেমনই খানাখন্দে ভর্তি। যেখানে ১০ টন ভার নেওয়ার ক্ষমতা। সেই রাস্তায় ৪০-৫০ টনের ওপর বালি বোঝাই লরি যাতায়াত করছে। যার দরুন ক্যানেলের পাড় ধসে পড়ছে। আর ওই ক্যানেলপাড় ভাঙলে যেমন কৃষি কাজে সেচের জল জোগান লাটে উঠবে। তেমনই বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়েছে গলসি-১ ও ২ নং ব্লকের কয়েক’শ হেক্টর জমির ধান চাষ। এতো গেল গ্রামীন রাস্তা। সেচ দফতর বিষয়টি নিয়ে তৎপর হয়। অভিযোগও জানায়। তার পরও বালি গাড়ী যাতায়াত বন্ধ হয়নি। উল্টে বিষয়টি লাল ফিতের ফাঁসে আটকে পড়ে যায়। মঙ্গলবার পরেশবাবু নতুন করে অভিযোগ জানাতেই আপাতত বালি গাড়ির যাতায়াত বন্ধ হয়েছে। বিজেপির দুর্গাপুর-বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি রমন শর্মা বলেন,” নতুন সরকার আসার পর, মানুষ দমবন্ধ অবস্থা থেকে প্রান ফিরে পেয়েছে। এরা তারই প্রমান। সাহসিকতার সঙ্গে মুখ খুলতে পারছে। মাফিয়ারাজের প্রতিবাদে বিচার চাইতে পারছে।”

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments