eaibanglai
Homeএই বাংলায়দুর্গাপুরের হোটেলে নাবালিকার গণধর্ষণ! শিল্পাঞ্চলের হোটেল গুলিতে মেয়েদের বাণিজ্যিক যৌন শোষণের অভিযোগ

দুর্গাপুরের হোটেলে নাবালিকার গণধর্ষণ! শিল্পাঞ্চলের হোটেল গুলিতে মেয়েদের বাণিজ্যিক যৌন শোষণের অভিযোগ

মনোজ সিংহ, দুর্গাপুর:- দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে ফের এক নাবালিকা ধর্ষনের অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এক অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীর উপর সংঘবদ্ধ ধর্ষনের অভিযোগ উঠতেই এলাকা জুড়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, শিল্পাঞ্চলের কিছু হোটেল কি বেআইনি কর্মকাণ্ডের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠছে? রবিবার দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের সিটি সেন্টারে অবস্থিত ‘পার্ক স্যুইট’ নামক এক হোটেলে জঘন্যতম নাবালিকা মেয়েকে গণধর্ষণের করার অভিযোগ উঠেছে।

একটি সূত্র মারফত জানা গেছে, সিটি সেন্টারের বেঙ্গল অম্বুজা ও কবিগুরু এলাকায় অবস্থিত ‘পার্ক স্যুইট’ নামক এক হোটেলে গত শনিবার রাতে বুদবুদ থানা এলাকার অষ্টম শ্রেণির এক নাবালিকা ছাত্রীকে তারই এক বান্ধবী বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর চার চাকার ভেতর মদ্যপান করিয়ে তিন যুবকের হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। নির্যাতিতার বাবার অভিযোগ, “নাবালিকাকে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের বেঙ্গল অম্বুজা ও কবিগুরু এলাকার একটি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাজ মল্লিক, শেখ আজারুদ্দিন-সহ তিন যুবক তার উপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। ঘটনার পর অভিযুক্তরা নাবালিকাকে বুদবুদ বাইপাস এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।” শনিবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর দুর্গাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। রবিবার সকাল থেকে শুরু হয় তল্লাশি। অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। ইতিমধ্যেই ফরেন্সিক দল ঘটনায় প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করেছে।

নির্যাতিতার বাবার অভিযোগ, “বুদবুদ এলাকার সিমরান তামাং নামে এক তরুণী আমার মেয়েকে বাড়ি থেকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে যায়। তারপর মদ্যপান করায়। মদের সাথে ওষুধ মিশিয়ে দেয় যাতে বেহুঁশ হয়ে যায়। তারপর তিন যুবকের সঙ্গে হোটেলের ভেতর ঢুকিয়ে দেয়। তারপরেই মেয়ের সাথে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। তারপর বুদবুদ বাইপাসে মেয়েকে একা ছেড়ে দিয়েই পালাই অভিযুক্তরা। এক টোটোওয়ালা অসহায় অবস্থায় দেখতে পেয়ে মেয়েকে বাড়িতে পৌঁছে দেয়। তারপরেই আমরা বিষয়টি জানতে পারি। পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করুক আমি চাই। বর্তমানে আমার মেয়ে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।”

বিজেপির যুব নেতা পারিজাত গঙ্গোপাধ্যায় পরিবারের সদস্যদের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে বলেন,”যারা এই ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। বর্তমান সরকার এই ধরনের ঘটনা আপোষ করবে না। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলন ধর্ষণকারীদের সকালে জমা নেব, বিকেলে খরচ করে দেওয়া হবে। দুষ্কৃতীরা জমা পড়েছে, বিকেলে তাদের খরচ করে দেওয়া উচিত। এবার থেকে আমরা শিল্পাঞ্চলের সমস্ত হোটেল গুলিতে রাত্রে বেলায় নিজেরাই তদন্ত চালিয়ে দেখব কোথাও কোন নাবালিকা মেয়েদের বাণিজ্যিক যৌন শোষণ ও বেশ্যাবৃত্তি যেন না হয়।”

অন্যদিকে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনার ড: প্রণব কুমার বলেন,”ইতিমধ্যেই তিনজন গ্রেপ্তার হয়েছে। এদের মধ্যে মূল কালপিট সিমরান তামাং। তদন্ত চলছে। ধৃতদের পুলিশি হেফাজত চেয়ে সোমবার দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে।”

উল্লেখ্যঃ গত ২৪শে মে ২০২৬ এ “চ্যানেল এই বাংলায়” এক খবর পরিবেশন করে সেখানে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হয় যে দুর্গাপুরের বিভিন্ন প্রান্তে কমবেশি প্রায় সব হোটেল গুলিতে ইদানিং কালে নাবালিকা মেয়েদের বাণিজ্যিক যৌন শোষণ ও বেশ্যাবৃত্তি প্রচলন রাতের পর রাত বেড়েই চলেছে। বিধাননগরের একটি হোটেলের বিরুদ্ধে গুরুতর এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওই সংবাদ পরিবেশিত হয়। শুধু তাই নয়, সেইদিন ন্যাশনাল চাইল্ড হেল্প লাইনে অভিযোগ দায়ার করা হয়। কিন্তু স্থানীয় এনটিপিএস থানার পুলিশ নাকি এখনো পর্যন্ত তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেয়নি বলে এলাকার সাধারণ মানুষের অভিযোগ করেন।

বিধাননগরের পর সিটি সেন্টার অম্বুজা ও কবিগুরু ক্রসিং এর ওপর অবস্থিত ‘পার্ক স্যুইট’ নামক যে হোটেলটিতে এই নাবালিকা গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে তার বিরুদ্ধেও উঠেছে চাঞ্চল্যকর সব অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্র মারফত জানা গেছে, দুর্গাপুর ইস্পাত নগরীর শিবাজী রোডের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রাক্তন এক ইস্পাত কর্মীর পুত্র, জনৈক্য মুন্না নামক এক ব্যক্তি এডিডিএ এর কাছ থেকে ওই জমি পায় বেশ কয়েক বছর আগে। কিন্তু আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকার ফলে দুর্গাপুর সিটি সেন্টারের এক ব্র্যান্ডেড স্বর্ণ ব্যবসায়ীর সহযোগিতায় দুর্গাপুরের মেনগেট এলাকার কুখ্যাত এক কয়লা চোর ‘ইরশাদ’ নামক ব্যক্তি ওই ‘পার্ক স্যুইট’ হোটেলটি তৈরি করেন বলে অভিযোগ। হোটেলটিতে তৈরি করার জন্য যে লগ্নী হয়েছিল, তার জন্য লগ্নী ফেরতের উদ্দেশ্যে এই ‘ইরশাদ’ নাকি আগামী বেশ কয়েক বছর ওই হোটেল পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে নেন জনৈক্য মুন্না নামক ব্যক্তির থেকে। হোটেলটি তৈরি হতেই চলে আসে করনা কাল। সেই সময় স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে দুর্গাপুরের এক বিখ্যাত মাল্টি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের কোয়ারেন্টাইন সেন্টার হিসেবে এই হোটেলটিতে কাজকর্ম চলে। করণা কাল শেষ হতেই মেন গেটের কুখ্যাত কয়লা চোর ‘ইরশাদ’ ও তার সাঙ্গ পাঙ্গরা ওই হোটেলটিকে বাণিজ্যিক যৌন শোষণের আখড়া করে তোলেন বলে অভিযোগ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, “দিনের বেলায় ওই হোটেলে তেমন ভাবে কোন মানুষকে যাওয়া আসা করতে দেখা যেত না। কিন্তু সন্ধ্যের পর থেকে মধ্যরাত অবধি বহিরাগত বহু যুবক যুবতী নামিদামি গাড়িতে করে ওই হোটেলে আসে, চলে দেদার ফুর্তি।” ওই এলাকার বাসিন্দারা নাকি ওই হোটেলের কাজকর্মের বিরোধিতা কয়েকবার করার চেষ্টা করলেও, আমরাই গ্রামের কয়েক বছর আগে ৩০০ টাকায় দিনমজুর খাটা বর্তমানে কয়েক কোটি টাকার মালিক জনৈক্য এক তৃণমূল কংগ্রেস শ্রমিক নেতা ‘আজিমউদ্দিন’ নামক ব্যক্তির প্রভাবে তারা নাকি পিছিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন।

স্থানীয় মানুষের আরো অভিযোগ, “বছরের পর বছর তৃণমূলের আমলে এই হোটেলে নোংরামি বেড়েই চলেছিল। তাদের এই যৌন ব্যবসা এতটাই বাড় বাড়ন্ত হচ্ছিল যে তাদের জায়গা কম পড়ে যাচ্ছিল। তাই তারা দুর্গাপুর সিটি সেন্টারের সত্যজিৎ রায় স্মরণীতে অবস্থিত ডক্টরস কলোনির এক পুরনো নার্সিংহোমকে কিনে তা সম্পূর্ণরূপে ভেঙ্গে ফেলে এক মাল্টি স্টোরেড বিল্ডিং কাম হোটেল করার পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছে।” তাদের আরো অভিযোগ, “আমরাই গ্রামের কুখ্যাত ওই তৃণমূল কংগ্রেস শ্রমিক নেতা ‘আজিমউদ্দিনের’ দুর্নীতি করে রোজগার করা বেশ কয়েক কোটি কালো টাকাতেই ইরশাদ ও তার কয়লা চোর সহযোগীরা একত্রিত হয়ে যৌন ব্যবসার জন্যই নাকি গড়ে তুলেতে চাইছেন এই বহুতলটি সিটি সেন্টারের প্রাণ কেন্দ্রে।”

অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, তৃণমূল কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন প্রথম সারির নেতা ও কর্মীরাও নাকি সক্রিয়ভাবে নাবালিকা মেয়েদের বাণিজ্যিক যৌন শোষণ করছিলেন। ওই ‘পার্ক সুইট’ হোটেলের পাশেই কিছু দূরে অবস্থিত এক ঠিকাদারি সংস্থার অফিসের এক কর্ণধার ও লেবার সাপ্লাই কন্ট্রাক্টার, যিনি কিনা দুর্গাপুর পশ্চিম কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের এবারের বিধানসভার প্রার্থীর সব সময় পাশে পাশে ঘুরতে দেখা গিয়েছিল, তিনিও নাকি এই সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য বলে অভিযোগ। রাজ্য সরকারের দুর্নীতি দমন শাখা ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ইডি, সিবিআই ও ইনকাম ট্যাক্স বিভাগকে দিয়ে অবিলম্বে এইসব দুষ্কৃতিদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত শুরু করা উচিত বলে দাবি তোলেন স্থানীয়রা।

দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে এই ঘটনার পর ফের প্রশ্ন উঠছে, নাবালিকাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নজরদারি কতটা কড়া? অভিযোগের জাল কতদূর বিস্তৃত? এখন দেখার আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের দক্ষ গোয়েন্দা বাহিনী নাবালিকা মেয়েদের বাণিজ্যিক যৌন শোষণকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments