সন্তোষ কুমার মণ্ডল,আসানসোলঃ- রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই বদলাতে শুরু করেছে রাজনৈতিক সমীকরণ । রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে । ইতিমধ্যে একাধিক বিদ্রোহী বিধায়ক দলের সিদ্ধান্ত অস্বীকার করে নির্বাচন করেছে বিরোধী দলনেতা । লোকসভা রাজ্যসভাতেও ভাঙ্গনের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস । বিভিন্ন পুরসভা, পুরনিগম, পঞ্চায়েত ও স্থানীয় প্রশাসনিক সংস্থায় তৃণমূল কংগ্রেসের জনপ্রতিনিধিদের একের পর এক পদত্যাগের ঘটনা সামনে আসছে। এই আবহে পশ্চিম বর্ধমান জেলার পাণ্ডবেশ্বর ব্লকের নবগ্রাম পঞ্চায়েতে প্রধান, উপপ্রধান সহ ৮ জন সদস্য একযোগে পদত্যাগ করলেন ।
সোমবার তারা পদত্যাগ পত্র জমা দেন স্থানীয় বিডিওর হাতে । পদত্যাগীরা হলেন প্রিয়া বাগদি (প্রধান) সতন সৌমন্ডল (উপপ্রধান), বৈশাখী রাউত, আরতী বাউরী, জিনা দাস, সুভাষচন্দ্র হাঁসদা, সোনালী কোড়া ও উষা দেবী ।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি পাণ্ডবেশ্বরের তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর বাসভবন সংলগ্ন গোডাউন থেকে উদ্ধার হয় ত্রিপল সহ বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণ সামগ্রী । এই ঘটনায় জনমানসে তৃণমূল সম্পর্কে বিরুপ ধারণা হয়েছে সেই কারণেই পদত্যাগ বলে জানান প্রধান প্রিয়া বাগদি উপপ্রধান সতন সৌমন্ডল সহ অন্যরা। তারা বলেন, এরপরে আমাদের আর পঞ্চায়েতের সদস্য হিসেবে থাকাটা ঠিক নয়। মানুষের মনে অন্য ভাবনা হবে।
উল্লেখ্য, ১৮ জন সদস্য রয়েছে নবগ্রাম পঞ্চায়েতে। ইতিমধ্যে একজন সদস্যের মৃত্যু হয়েছে । এদিন আট জন সদস্য একযোগে পদত্যাগ করায় পঞ্চায়েতের ভবিষ্যৎ নিয়ে উঠছে প্রশ্ন ।
অন্যদিকে একই দিনে তৃণমূলের রক্তক্ষরণ হল আসানসোল পুরনিগমেও। এদিন আসানসোল পুরনিগমের ৫৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা পুরপিতা সঞ্জয় নুনিয়া তার কাউন্সিলর পদ থেকে ইস্তফা দেন। তবে কোন রাজনৈতিক কারণ নয় বরং ব্যক্তিগত কারণেই এই পদত্যাগ বলে জানা গেছে।
পুরনিগমের কমিশনারের কাছে জমা দেওয়া পদত্যাগপত্রে সঞ্জয় নুনিয়া জানিয়েছেন, তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থ এবং গত কয়েক মাস ধরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাবার চিকিৎসা, হাসপাতালে যাতায়াত এবং দেখভালের প্রয়োজন। তাই তিনি পরিবারের পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেই কারণেই তিনি কাউন্সিলারের পদ থেকে পদত্যাগ করছেন। অবিলম্বে এই আবেদনের ভিত্তিতে আমার কাউন্সিলর পদ থেকে পদত্যাগ পত্র কার্যকর করা হোক।
এদিকে সঞ্জয় নুনিয়ার এই পদত্যাগকে ঘিরে আসানসোলের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। দীর্ঘদিন তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত থাকা এই জনপ্রতিনিধির আকস্মিক সিদ্ধান্তে স্বাভাবিকভাবেই নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে।



















