eaibanglai
Homeএই বাংলায়বাড়িতে কল আছে কিন্তু গ্রামের সবাই পান করেন ঠাকুরপুকুরের পবিত্র জল

বাড়িতে কল আছে কিন্তু গ্রামের সবাই পান করেন ঠাকুরপুকুরের পবিত্র জল

শুভ্রাচল চৌধুরী, বাঁকুড়া: বাঁকুড়া পুরুলিয়ার জলের সমস্যা নতুন কিছু নয়। তবে জানেন কি বাঁকুড়ার একটি গ্রামে বাড়িতে বাড়িতে কল থাকলেও, গ্রামের মানুষের অধিকাংশই সেই জল ব্যবহারই করেন না! কি? অবাক হচ্ছেন তাই তো? বাঁকুড়া শহর থেকে ১২ কিলোমিটার বাঁকুড়া দুর্গাপুর রোডের উপরে বেলবনি গ্রাম। এই গ্রামেই রয়েছে ঠাকুরপুকুর। এই পুকুরের জলই পান করেন বেলবনি ছাড়াও পুকুর সংলগ্ন একাধিক গ্রাম।

সকাল ছয়টা থেকে জল নিতে, বড় বড় প্লাস্টিকের জার , হাঁড়ি, কলসি এবং বোতল নিয়ে ভিড় জমান গ্রামবাসীরা। কেউ কেউ আবার পুকুর থেকেই জল তুলে পান করছেন এক নিমেষে। গ্রামবাসীদের একাংশের মতে ঠাকুর পুকুরের জলে রান্না খুব ভাল হয় এবং দীর্ঘ দিন ধরে এই জল পান করেও কেউ অসুস্থ হননি বলেই জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা। মূলত পূর্ব পুরুষের আমল থেকেই চলে আসছে এই রীতি। এই বিশেষ পুকুরে কাপড় কাচা, বাসন মাজা কিংবা স্নান করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। শুধুমাত্র পানীয় জলের জন্যই ব্যাবহার করা হয় এই পুকুর।

বেলবনি গ্রামে প্রবেশ করলেই দেখতে পাবেন বাড়িতে বাড়িতে লাগানো রয়েছে জলের কল। তবে গ্রামবাসীদের একাংশের মোট সেই জল তারা পান না করে অন্যান্য কাজে ব্যবহার করেন। নিজেদের সুবিধা মত পুকুরের জল এবং কলের জল ব্যাবহার করেই কাজ চালাচ্ছেন বেলবনির মানুষ। গ্রামের বাসিন্দা শ্রীমন্ত দেব জানান, “এই পুকুরে কাউকে নামতেই দেওয়া হয় না। শুধুমাত্র পান জলের জন্য আমরা এই পুকুরকে ব্যবহার করি। বেলবনির বাসিন্দা যারা দিল্লি কিংবা মুম্বাইতে রয়েছেন তারাও এই জল নিয়ে যান।”

বেলবনি গ্রামের গৃহবধূ সাগরি মাঝি রান্নার কাজে ব্যবহার করে থাকেন পুকুরের জল। যদিও তার বাড়িতে লাগানো রয়েছে দু-দুটি কল। তবুও সাগরি মাঝি বলেন, “বাড়িতে কল লাগানো থাকলেও আমরা পুকুরের জল পান করি এবং রান্নার কাজে ব্যবহার করি। কেউ কোনদিন অসুস্থ হননি। খুব ভালো রান্না হয়।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments