eaibanglai
Homeএই বাংলায়অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে বিডিও অফিসে বিক্ষোভ মহিলাদের

অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে বিডিও অফিসে বিক্ষোভ মহিলাদের

সন্তোষ কুমার মণ্ডল,আসানসোলঃ- অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সুবিধা না পাওয়াকে কেন্দ্র করে উপভোক্তাদের ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। আবেদন করেও দ্বিতীয় দফায় ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢোকেনি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা। প্রতিবাদে রানীগঞ্জ,অন্ডাল, সালানপুর, বারাবনি বিডিও অফিসে বিক্ষোভে সামিল হলেন মহিলারা।

বিক্ষোভকারী মহিলাদের অভিযোগ, রানীগঞ্জ ও অন্ডাল এলাকায় বহু উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে ইতিমধ্যেই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা জমা পড়লেও তাঁদের অ্যাকাউন্টে এখনও কোনও অর্থ ঢোকেনি। এতে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিক্ষোভকারী বলেন, “নির্বাচনের সময় আমরা নেতা-নেত্রীদের হয়ে প্রচার করেছি, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট দেওয়ার আবেদন জানিয়েছি। তাঁরা জিতেছেন। কিন্তু এখনও আমাদের অ্যাকাউন্টে টাকা এল না।”

এর পাশাপাশি এদিন সালানপুর ব্লকের বিভিন্ন পঞ্চায়েত এলাকা থেকে শয়ে শয়ে মহিলা বিডিও অফিসে পৌঁছে বিক্ষোভ দেখান। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও প্রশাসনের কোনও আধিকারিক তাঁদের সঙ্গে দেখা না করায় ক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।


বিক্ষোভকারী মহিলাদের অভিযোগ, তাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কেন তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকছে না, সেই প্রশ্নের উত্তর জানতে তাঁরা বিডিও অফিসে এসেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পরও বিডিও বা প্রশাসনের কোনও দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে আসেননি ।

বিক্ষোভকারী মহিলারা দাবি করেন, প্রকৃত যোগ্য সমস্ত মহিলাকে অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা দিতে হবে। এমনকি বারাবনির বিধায়ক অরিজিৎ রায়ের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন আন্দোলনকারী মহিলারা।

অন্যদিকে আসানসোলের বারাবনি বিডিও কার্যালয়েও অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাওয়ার দাবিতে এদিন সকাল থেকে স্থানীয় মহিলারা ব্লক অফিসের সামনে জড়ো হয়ে তুমুল বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ব্লকের বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা থেকে আগত ক্ষুব্ধ মহিলারা দাবি করেন, তাঁরা যোগ্য তাও তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার প্রাপ্য টাকা আসছে না।

মহিলারা বিডিও অফিসের মূল গেটের সামনে জোরালো বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন। ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বারাবনি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানরা। আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ বিক্ষোভকারী মহিলাদের অফিসের মূল প্রবেশদ্বার থেকে সরিয়ে দেয়।

যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমস্ত যোগ্য উপভোক্তাই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আর্থিক সহায়তা পাবেন। আবেদন ও যাচাইয়ের সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে। যাঁদের টাকা এখনও জমা পড়েনি, তাঁদের তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবী, আয়করদাতা, পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা নন এমন ব্যক্তি, পুরুষ এবং ২৫ বছরের কম বা ৬০ বছরের বেশি বয়সি মহিলারা এই প্রকল্পের আওতায় পড়েন না। পাশাপাশি, যাচাই-বাছাইয়ে অযোগ্য বা ভুলভাবে অন্তর্ভুক্ত নামও তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments