eaibanglai
Homeএই বাংলায়জাতীয় সড়কের ধারে রমরমিয়ে চলছে জ্বানালি তেল মজুত করে কাটা তেলের কারবার,...

জাতীয় সড়কের ধারে রমরমিয়ে চলছে জ্বানালি তেল মজুত করে কাটা তেলের কারবার, সরকার বদলালেও বদলায়নি চিত্র

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ- রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরই অবৈধ কারবার ও দুর্নীতি দমনে কড়া বার্তা দিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। সেই মতো রাজ্য জুড়ে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে পুলিশ প্রশাসনে। জেলায় জেলায় দুর্নীতি তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হচ্ছেন তৃণমূল নেতা কর্মী থেকে দুষ্কৃতীরা। তবে এই পরিবর্তনের হাওয়ায় বদলের কোন লক্ষণ নেই পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরে জাতীয় সড়কের ধারে চলা অবৈধ জ্বালানি কাটা তেলের কারবারে। কাঁকসার রাজবাঁধ, পানাগড় -মোরগ্রাম রাজ্যসড়কের ওপর বিলপাড়া, চারের মাইল, বুদবুদের কোটা মোড়, তিলডাঙ মোড়, এলাকায় পার্কিংয়ের নামে রমরমিয়ে চলছে এই অবৈধ কারবার। ঝুপড়ি ঘরে বড় বড় ডিপোতে জ্বালানি তেল মজুত করে চলছে এই ঝুঁকির কারবার। যে কোন সময় ঘটে যেতে পারে বড় সড় দুর্ঘটনা। বিশেষ করে বায়ুসেনা ঘাঁটির কয়েকশো মিটারের মধ্যেই চলছে এই অবৈধ কারবার, যা সেনা ঘাঁটির সুরক্ষা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য বছরখানেক আগেই কাঁকসার বীরুডিহা বায়ুসেনা ঘাঁটি লাগোয়া অবৈধ তেল ডিপোয় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তার আগে ২০২২ সালে মার্চ মাসে বিরুডিহায় পার্কিংয়ে দাঁড়িয়ে থাকা জ্বালানী তেলের ট্যাঙ্কারে আগুন লাগে। তাতে বেশ কয়েকজন ঝলসে যায়। এছাড়াও ২০১৮ সালে অবৈধভাবে তেল মজুতের গ্যারেজে আগুন লেগে একজনের মৃত্যু হয়। তারপরও হুঁশ ফেরেনি প্রশাসনের। প্রশাসন, দমকল বিভাগ সবার নজর এড়িয়ে কীভাবে দিনের পর দিন এই অবৈধ কারবার চলছে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

কিন্তু কী করে তেল চুরি করে কারবার চালানো হয় ? প্রসঙ্গত রাজবাঁধে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপর রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ইন্ডিয়ান অয়েল, হিন্দুস্থান পেট্রোলিয়াম, ভারত পেট্রোলিয়ামের তেল ডিপো। স্থানীয় সূত্র মারফত জানা যায়, সেখান থেকে তেল পরিবহণকারী ট্যাঙ্কার থেকেই চলে তেল চুরি। তার পর সেই তেল সড়ক সংলগ্ন ঝুপড়ি ঘরে মজুত করে রেখে চালানো হয় অবৈধ কারবার। নজর এড়াতে কাপড় দিয়ে দেওয়া থাকে ঘেরাটোপ। সামনে টায়ার পাম্প কিম্বা গ্রিজিংয়ে পশরা রেখে তার ভেতরে চলে তেল কাটিং। এক একটি ঝুপড়িতে প্রায় হাজার লিটারের ক্যাপাসিটির ৬-৮ টি বিশালাকার ট্যাঙ্ক থাকে তেল মজুতের জন্য। দুর্গাপুর থেকে পানাগড় পর্যন্ত জাতীয় সড়কের থাকে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে এই সব কাটিং তেলের ঝুপড়ি। যেখানে পার্কিংয়ের নামে চলছে অবৈধ তেলের কারবার।

এদিকে তেল চুরি রুখতে সম্প্রতি ই-লকিং সিস্টেম চালু করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি। যাতে তেলসংস্থার ডিপো থেকে নির্দিষ্ট পেট্রোল পাম্প পর্যন্ত রুট লকিং থাকে। তার বাইরে অন্য রুটে ট্যাঙ্কার চালনা হলে, মুহুর্তে জানান দেবে তেল সংস্থার অফিসে। এছাড়াও, ট্যাঙ্কারে ই-লকিং একমাত্র ডিপো ও নির্ধারিত পেট্রোলপাম্পে খুলবে। সেখানে লকিং সুইচ দেওয়া মাত্রই পাম্প মালিকের রেজিস্টার করা মোবাইল নম্বরে ওটিপি যাবে। সেই ওটিপি লগ করার পর ট্যাঙ্কারের লক খুলবে। অথচ ডিজিটাল প্রযুক্তিকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে জনবহুল সড়কের পাশে ঝুঁকি নিয়ে অবাধে চলছে জ্বালানি তেল চুরি।

এখন প্রশ্ন, অত্যাধুনিক ই- লকিংয়ের পরও কীভাবে চুরি হচ্ছে জ্বালানি তেল? অভিযোগ, ট্যাঙ্কারের জিপিএস সিস্টেমে ব্যাটরির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। তাতে সিস্টেমে নির্দিষ্ট রুটে গাড়ি চলছে বলে দেখায়। দ্বীতিয়ত, ট্যাঙ্কারের ঢাকনার ওপর বসানো মোটা রড গ্যাস কাটার দিয়ে কেটে কিম্বা বাঁকিয়ে দেওয়া হয়। তার পর টুলু পাম্প বসিয়ে ট্যাঙ্কার থেকে তেল চুরি করা হয়। তেল কাটিংয়ের পর আবারও ওই রড লাগিয়ে দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের একাংশের দাবি পুলিশের দুর্নীতিগ্রস্ত কিছু আধিকারিকদের মদতেই চলছে এই অবৈধ কারবার। যদিও বিজেপির দুর্গাপুর-বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি রমন শর্মা অবশ্য এই দুর্নীতির দায় প্রাক্তন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের উপরই চাপিয়েছেন । তার মতে অবৈধ তেল চুরি থেকে শুরু করে বালি, কয়লা, মাটি সবই চুরি চলত তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের মদতে। তবে বর্তমান সরকার অবৈধ কারবার, সিন্ডিকেটরাজ, মাফিয়ারাজ বরদাস্ত করবে না বলেই দাবি করেন তিনি। তার মতে জাতীয় সড়ক সংলগ্ন এই অবৈধ তেলের কারবারের বিরুদ্ধেও অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বিজেপি নেতার এই আশ্বাসবাণী কতটা ফলপ্রসু হয় তা তো সময়ই বলবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments