নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ- রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তাদের দল ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পরিবর্তে রাজ্যের মহিলাদের জন্য অন্নপূর্ণা প্রকল্পের ব্যবস্থা করা হবে, যেখানে ১৫০০ টাকার বদলে প্রতি মহিলাকে ভাতা হিসেবে ৩০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। নির্বাচন মিটেছে, বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে। এরপরই প্রতিশ্রুতি মতো অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের ঘোষণা করেছে সরকার। ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও পুর ও নগরোন্নয়ন এবং নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের উপস্থিতিতে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে নাম নথিভূক্ত করার জন্য ফর্ম প্রকাশ হয়েছে। আগামী তিন মাস বা ৯০ দিন ধরে এই ফর্ম দেওয়া ও জমা নেওয়ার কাজ চলবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে যারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছিলেন তারা আপাতত সেই ভাতা পাবেন বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে নতুন করে সবাইকে (যারা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের ভাতা পেতে চান) ফর্ম ফিলাপ করতে হবে বলে জানা গেছে।
এদিকে এই ঘোষণার পর দুর্গাপুরে শুরু হলো অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ফিলাপের কাজ। এর জন্য সিটি সেন্টারে আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ বা আড্ডার অফিসের সামনে একটা শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুইয়ের নেতৃত্বে এদিন শুরু হয় শিবিরের কাজ। বিধায়ক নিজে উদ্যোগ নিয়ে মহিলাদের ফর্ম ফিলাপে সাহায্য় করেন। পরে তিনি বলেন,”মুখ্যমন্ত্রী এই প্রকল্পের জন্য মোট ৯০ দিনের সময়সীমা ধার্য করেছেন। যাতে প্রতিটি মানুষ ফর্ম তোলার ও তা জমা দেওয়ার পর্যাপ্ত সুযোগ পান। দুর্গাপুরে বর্তমানে ৫টি বোরো এলাকায় কাজ শুরু হয়েছে। আমরা আবেদন জানিয়েছি যেন দুর্গাপুরের ৪৩টি ওয়ার্ডেই এই ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। বোরো অফিসগুলোর পাশাপাশি ওয়ার্ড অফিসগুলিতেও সাধারণ মানুষ এই সুবিধা পাবেন।” পাশাপাশি তিনি জানান এলাকার কোনো দরিদ্র মানুষ যেন এই সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন সেই লক্ষ্যেই শিবিরের আয়োজন করা হচ্ছে।
অন্যদিকে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম নিয়ে ইতিমধ্যে রাজ্য জুরে শুরু হয়েছে বিতর্ক । অনেকেই মহিলারই অভিযোগ নির্বাচনে আগে বলা হয়েছিল যারাই লক্ষ্মী ভাণ্ডার পাচ্ছে তারা সকলেই অন্নপূর্ণা যোজনায় ভাতা পাবেন। এখন দেখা যাচ্ছে ১৩ পাতার একটি কঠিন ফর্ম প্রকাশ করা হয়েছে। যেটি পূরণ করা ও তথ্য সংক্রান্ত নথি যোগাড় করে তা জমা দেওয়া অনেক সাধারণ মহিলার কাছে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ফর্মে পরিবারের অর্থনৈতিক কাঠামো ও নানা গুতুত্বপূর্ণ নথি যেমন- পরিবারের সকল সদস্যদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর, প্যান নম্বর, প্রত্যেকে কে কোথায় কাজ, পরিবারের সামগ্রিক আয়, পরিবারের সদস্যরা আয়কর দেয় কিনা ইত্যাদি জানতে চাওয়া হয়েছে, যা নিয়ে অনেকের মনে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। এতে অনেকেই মনে করছেন অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের মহিলা সদস্যরাই কেবলমাত্র এই ভাতার সুযোগ পাবেন। আবার অনেকে পরিবারের সকল সদস্যের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য একসঙ্গে এক জায়াগায় নথিবদ্ধ করে জমা দিতে ভয় পাচ্ছেন। বিশেষ করে এই সাইবার প্রতারণার যুগে। আবার অনেকেই এই পক্রিয়াকে সাধুবাদও জানাচ্ছেন। তাদের মতো সরকারি অর্থ সবাইকে দিয়ে নয়ছয় করার কোন মানে হয়না। বরং যাদের ওই ভাতার প্রয়োজন রয়েছে সেই সব অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মহিলারাই ভাতার সুযোগ পাবে এই পদ্ধতিতে। সব মিলিয়ে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে শহরের মহিলাদের মধ্যে।


















